‘জাতীয় পার্টিকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, নিজেদের মধ্যেই ঝামেলা আছে’

‘জাতীয় পার্টিকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, নিজেদের মধ্যেই ঝামেলা আছে’

জাতীয় পার্টি নির্বাচনী মাঠে নামতে পারছে না—এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, জাপার বাধা প্রশাসন নয়, বরং দলটির নিজস্ব কার্যালয়সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সংকটই সমস্যার মূল। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৭তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই। জাতীয় পার্টিকে মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না—এই অভিযোগ সঠিক নয়। জাতীয় পার্টির কার্যালয় নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঝামেলা রয়েছে।” তিনি আরও জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বডি ওর্ন ক্যামেরা সংগ্রহ এবং প্রতিটি কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “যেকোনো প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রশিক্ষণ অনস্বীকার্য। প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, নিরাপদ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ চলমান রেখেছি, যা আগামী জানুয়ারিতে সম্পূর্ণ শেষ হবে।” তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এবার ভোট শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তাই সূর্যাস্তের পরেও সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনার জন্য সব কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। জুলাই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে নিরাপত্তা যাচাই চলছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আগে আমরা এর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলাপ করেছি, যাতে দর্শনার্থীরা নিরাপদে জাদুঘরে আসা-যাওয়া করতে পারে।” এ সময় তিনি জানান, রংপুরে এক পুলিশ সদস্যের বাবা-মাকে হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের প্রসঙ্গে তিনি সংক্ষেপে বলেন, এটি একটি “চলমান প্রক্রিয়া।”

১০ ডিসেম্বর সিইসির ভাষণ রেকর্ড, সেদিনই হতে পারে তফসিল ঘোষণা

১০ ডিসেম্বর সিইসির ভাষণ রেকর্ড, সেদিনই হতে পারে তফসিল ঘোষণা

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার প্রহর ঘনিয়ে এসেছে। এ নিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের ভাষণ আগামী ১০ ডিসেম্বর রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, “বিটিভি ও বেতারকে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন ভবনেই সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হবে। ওই দিন অথবা পরদিন ১১ ডিসেম্বর ভাষণটি প্রচার করা হতে পারে।” ইসি সূত্রগুলো বলছে, এবার সিইসির রেকর্ড করা ভাষণ থেকেই তফসিল ঘোষণা আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আগের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল সরাসরি সম্প্রচারে তফসিল ঘোষণা করেছিলেন, তবে এবার প্রচার করা হবে পূর্ব-রেকর্ড করা বক্তব্য। কর্মকর্তারা জানান, তফসিল প্রকাশের আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সিইসি ও কমিশনারদের সাক্ষাৎ নির্ধারিত আছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পরই তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বৈঠক শেষে রেকর্ড করা ভাষণ প্রচার করে তফসিল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

‘শেখ হাসিনা জননেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এসেছিলেন, সিস্টেমই তাকে স্বৈরাচারী বানিয়েছে’

‘শেখ হাসিনা জননেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এসেছিলেন, সিস্টেমই তাকে স্বৈরাচারী বানিয়েছে’

জাতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তাঁর মতে, শেখ হাসিনা রাজনীতিতে জননেত্রী হিসেবেই প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত তাকে স্বৈরাচারী শাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সোমবার ৮ ডিসেম্বর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনার সঞ্চালনায় ছিলেন বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. এনামুল হক। আহসান এইচ মনসুর বলেন, "শেখ হাসিনা একজন জননেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এসেছিলেন, স্বৈরাচার হয়ে জন্মাননি। কিন্তু সমাজ যখন নৈতিকতা হারায়, প্রশাসন যখন নিজের অবস্থান থেকে সরে যায়, বুদ্ধিজীবীরা যখন দলীয় স্বার্থে নীরব থেকে যান এবং ভোটার যখন প্রার্থীর যোগ্যতা উপেক্ষা করে শুধু মার্কা দেখে ভোট দেন; তখন আমরাই তাকে এমন অবস্থানে বসাই; যেখানে ক্ষমতা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে। তাই তাকে স্বৈরাচার করেছে সিস্টেম এবং সেই সিস্টেমের নির্মাতা আমরাই।" ব্যবসায়ীদের আচরণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমাদের ব্যবসায়ী কমিউনিটি শেষ দিকের একটি মিটিংয়ে বলেছেন 'আমি তোমাকেই চাই, বারে বারে শুধু তোমাকেই চাই'। অর্থাৎ, আমাদের ব্যবসায়ী কমিউনিটি বলেছে তাকে ছাড়া দেশ চলবে না; এই যে একটা অবস্থায় আমরা যেই দিকে নিয়ে যাই। এটার পেছনে আমাদের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন।" গভর্নর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে গত ১৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক সমাজ কিংবা বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যায়নি। তিনি মন্তব্য করেন, "যে জায়গাটাকে আমরা সুশীল সমাজ বলি, সেখানকার অবস্থাও অ্যানকম্প্রোমাইজড হওয়া উচিত ছিল। হ্যাঁ আমি কোনো দলকে সমর্থন করতেই পারি, কিন্তু 'নট বিয়ন্ড নর্ম'।" তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার দায় কেবল নেতৃত্ব বা সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। তাঁর ভাষায়, "ভোটার, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রশাসন; সবাই মিলে নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে। ভোট দেওয়ার দিনটিকেই আমরা গণতন্ত্র ভেবে নিয়েছি, অথচ গণতন্ত্র হল প্রতিদিনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং নেতৃত্বকে নিয়মিত মূল্যায়ন করা।" যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের দলকেন্দ্রিক পছন্দে তারা পরাজিত হন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। "যোগ্য প্রার্থী থাকলেও জনগণ মার্কার প্রতি অন্ধ সমর্থনের কারণে তাকে ভোট দেন না। ফলে যারা রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য আনতে পারতেন, তারা হারিয়ে যান। এই সংস্কৃতির ফলেই ক্ষমতা ধীরে ধীরে একচেটিয়া হয়ে পড়ে এবং নেতার চারপাশের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তাকে এমন কাঠামোর কেন্দ্রে ঠেলে দেয়; যেখানে জবাবদিহিতা বিলীন হয়ে যায়," বলেন গভর্নর। তিনি আরও বলেন, "জনগণ এখনও প্রার্থীর যোগ্যতা নয়; বরং দল ও মার্কা দেখে ভোট দেন। ফলে যোগ্য নেতৃত্ব পথেই আসতে পারে না এবং এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরেই স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা জন্ম নেয়।" গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ, "গণতন্ত্র ও উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে চলে; একটিকে দুর্বল রেখে অন্যটিকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব।" সমাপনী বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, "শক্তিশালী গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব নয়; সুতরাং গণতন্ত্রকে দুর্বল রেখে আর্থিক উন্নয়নের আশা করা বিভ্রান্তিকর।"

গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল প্রবাসী ভাইদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এ বার্তা দিয়েছেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, “মিথ্যে গুজব ছড়ানো ও গিবত করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় পাপ। সম্প্রতি কেউ কেউ প্রচার করছে প্রবাসীরা দেশে ৬০ দিন থাকতে পারবেন — এমন জঘন্য মিথ্যাচার প্রতিরোধ করুন।” তিনি আরও বলেন, “অন্তবর্তীকালীন সরকার বা আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মানুষ ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে যে মোবাইল ফোন সেট নিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে অন্যায় ও বৈষম্য করা হচ্ছে। প্রকৃত তথ্য নিচে তুলে ধরছি।” ড. আসিফ জানান, “শেখ হাসিনার আমলে প্রবাসীরা তাদের ব্যবহৃত ফোনের সঙ্গে মাত্র একটি নতুন সেট আনতে পারতেন। বর্তমান সরকার সুবিধা বৃদ্ধি করে দুইটি নতুন সেট আনতে অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ, প্রবাসীরা এখন ব্যবহৃত ফোনসহ দুইটি নতুন ফোন আনতে পারবেন। এর বেশি আনলে অতিরিক্ত সেটের জন্য ট্যাক্স দিতে হবে। এনবিআর ব্যাগেজ রুল পরিবর্তন করে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি শুধুমাত্র বিএমইটি ছাড়পত্রপ্রাপ্ত প্রবাসীদের জন্য প্রযোজ্য; অন্যদের জন্য আগের নিয়মই প্রযোজ্য।” আইন ও প্রক্রিয়া বিষয়েও স্পষ্ট করেন ড. আসিফ, “প্রবাসীদের ফোন রেজিস্ট্রেশনের জন্য নতুন কোন আইন করা হয়নি। মূলত, ১৬ ডিসেম্বর থেকে যে কেউ নতুন মোবাইল ব্যবহার শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেটটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এটি দেশের সব নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য। অবৈধ ফোন ব্যবহার করে অপহরণ, হুমকি, চাঁদাবাজি ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়, বরং সুরক্ষার জন্যই।”

জাতীয়
গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

পলাতক ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করছে দুদক

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অধিগৃহীত জমি পুনর্বাসনের পরিবর্তে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। তিনি জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন। কমিশন ইতোমধ্যে মামলার অনুমোদন দিয়েছে। সাবেক সেতুমন্ত্রী কাদের ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে তারা হলেন—সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. আব্দুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক অর্থ সচিব ও সাবেক সিএজি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য (সচিব) মিজ জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া এবং এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। দুদকের নথি অনুযায়ী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তীতে সে জমি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মচারীদের জন্য ৯৯ বছরের লিজে আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৭ এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম করা আইনবহির্ভূত। এ ছাড়া সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬ অনুযায়ী শুধু অস্থায়ী ইজারা দেওয়ার বিধান থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের ১০৬ ও ১০৭তম বোর্ড সভায় “দীর্ঘমেয়াদী লিজ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮” অনুমোদন করা হয়। দুদক বলছে, এই নীতিমালার গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও উপেক্ষিত হয়েছে। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় আইনবহির্ভূত নীতিমালা প্রণয়ন করে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আত্মগোপনে চলে যান। পরে তিনি ভারতে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।

গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

পাঁচ বছরের জন্য ইসির নিবন্ধন পেল ৮১ পর্যবেক্ষক সংস্থা

রাজধানী
রাজনীতি
গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

ঐক্যবদ্ধ না হতে পারলে ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, সামনের রাজনৈতিক লড়াই অত্যন্ত কঠিন হবে এবং দল যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকে, তাহলে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মনোনয়ন বিতর্ক নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, “কম-বেশি যেটা ভালো মনে হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। তোমার এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে; হয়তো তুমি যাকে পছন্দ করতে, সে মনোনয়ন পায়নি; যে পেয়েছে তার সঙ্গে তোমার যোগাযোগ কম। কিন্তু আরে ভাই, তুমি তো প্রার্থীর জন্য নয়, তুমি ধানের শীষের জন্য, দলের জন্য! এখানে প্রার্থী মুখ্য নয়, মুখ্য তোমার দল, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, মুখ্য ধানের শীষ।” তিনি আরও বলেন, সামনের লড়াই অত্যন্ত কঠিন এবং ঐক্যবদ্ধ না হলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি আসবে। আন্দোলনের সময় যেমন জনগণকে বোঝানো হয়েছিল, তেমনি দেশ গড়ার পরিকল্পনাও জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, আগামী দুই মাস বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। তিনি ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এটা আজকের অঙ্গীকার। আশা করি তোমরা এটি বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।” তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “যখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে আবার দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে, এই খাল খননের কাজ আবার শুরু করব।” তিনি আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, আর অন্যদিকে ফসলের সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছিলেন।

গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

সারাদেশ
গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

কুষ্টিয়ায় দিনদুপুরে বৃদ্ধা নারীকে গলাকেটে হত্যা

কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর এলাকায় দিনদুপুরে জাহানারা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নারীকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত জাহানারা বেগম একই এলাকার মৃত আবুল মোল্লার স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় জাহানারা বেগম বাড়িতে একাই ছিলেন। তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা দম্পতি দুজনই বাইরে ছিলেন। বিকেল চারটার দিকে এক প্রতিবেশী কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা খুলে বিছানায় গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি চুরি করতে এসে ধরা পড়ায় এমন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

আমার এলাকার খবর
আন্তর্জাতিক
গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

কম্বোডিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ড সোমবার কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা দুই মাস আগে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিকে নতুন সংকটের মুখে ফেলেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা আবারও গোলাগুলির ময়দানে পরিণত হয়েছে। ভোরে দুই দেশ একে অপরকে সীমান্তে হামলার দায়ারোপ করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বাড়ছিল, আর থাইল্যান্ড আগেই যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ের পাঁচ দিনের দমবন্ধানো সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত এবং দুই পাশ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, “আমরা হিংসা চাই না, তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সবকিছু করব।” তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক অভিযান বাড়ানো হতে পারে। থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে থাকলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কম্বোডিয়া হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা আগের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হামলা ছিল পাল্টা জবাব থাই সেনাবাহিনী জানায়, সোমবারের বিমান হামলা ছিল পাল্টা হামলা। ভোরে কম্বোডিয়ার হামলায় একজন থাই সৈন্য নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, কম্বোডিয়া ভোর ৩টার দিকে ভারী অস্ত্র নিয়ে সীমান্তে আগ্রাসন শুরু করে। তবে কম্বোডিয়া এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে। তাদের তথ্যমন্ত্রী নেথ ফেকত্রা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৫টার দিকে থাইল্যান্ডের সেনারা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। কয়েকটি প্রদেশে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। থাইল্যান্ডও সীমান্ত এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নিচ্ছে। সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে গেছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ঝুলে যাচ্ছে এ বছরের শুরুতে বড় সংঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ২৮ জুলাই প্রথম যুদ্ধবিরতির চুক্তি করান। পরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে বিস্তৃত চুক্তি সই হয়। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ও অন্যান্য উত্তেজনার কারণে থাইল্যান্ড তার অগ্রগতি স্থগিত করে। দুই দেশের প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বিতর্কের মূল কারণ ফরাসি উপনিবেশ আমলে তৈরি করা মানচিত্র, যা থাইল্যান্ড স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে।

গুজব থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

জাপানে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামির আঘাত

অর্থনীতি
ছয় দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩ কোটি ডলার

ছয় দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩ কোটি ডলার

ডিসেম্বরের প্রথম ছয় দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭১৩ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ছয় দিনে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে এসেছে ১৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এর আগে, গত নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্সের জোয়ার: প্রথম ৬ দিনেই ৬৩ কোটি ডলার

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্সের জোয়ার: প্রথম ৬ দিনেই ৬৩ কোটি ডলার

খেলাধুলা
বেগম রোকেয়া পদক পাচ্ছেন ঋতুপর্ণা চাকমা

বেগম রোকেয়া পদক পাচ্ছেন ঋতুপর্ণা চাকমা

নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নের প্রতীক বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া পদক এবার ক্রীড়াঙ্গনের একজন উজ্জ্বল মুখকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমাজ ও নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করে থাকে। ২০২৫ সালের এই পদকের জন্য নারী শিক্ষা খাতে ড. রুভানা রাকিব, শ্রম অধিকার আন্দোলনে কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার খাতে ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং ক্রীড়ায় নারী জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ঋতুপর্ণা চাকমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশের ফুটবল ক্ষেত্রে সুপরিচিত নাম। তার জোড়া গোলের ফলে বাংলাদেশ শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পায়। শুধু এশিয়া কাপই নয়, গত বছর সাফ ফাইনালে তার গোলের কারণে বাংলাদেশ নেপালকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ঋতুপর্ণা এখন ক্রীড়াঙ্গন ছাড়িয়ে দেশের প্রতীকী নারী নেতাদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস ৯ ডিসেম্বর। ঐ দিনই সরকার রোকেয়া পদক প্রদান করে। এর আগে রোকেয়া দিবসে ক্রীড়াবিদদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়নি। গত বছর কিংবদন্তি দাবাড়ু রাণী হামিদকে পদক দেওয়া হয়েছিল। এবার ঋতুপর্ণা চাকমা এই পদকের অধিকারী হয়েছেন। আগামীকাল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে পদক হস্তান্তর করা হবে। এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ২০২৫ সালে এই পদক পেয়েছিল। এর আগে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কোনো নারী পদক পাননি। সাবেক খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকার আব্দুল হামিদ সাংবাদিকতার জন্য একুশে পদক অর্জন করেছিলেন। দল হিসেবে একুশে পদক অর্জনে নারী দলই প্রথম।

বিনোদন
এক মাসেই ৩০ হাজার বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ‘গ্রিক গড’

এক মাসেই ৩০ হাজার বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ‘গ্রিক গড’

বলিউড সুপারস্টার ‘গ্রিক গড’ খ্যাত হৃতিক রোশন একসময় রাতারাতি যেভাবে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন, তা আজও রূপকথার মতোই মনে হয়। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ তাকে এনে দেয় অভূতপূর্ব সাফল্য, এমনকি প্রথম ছবির পর মাত্র এক মাসেই তিনি পেয়েছিলেন প্রায় ৩০ হাজার বিয়ের প্রস্তাব। সম্প্রতি কপিল শর্মার টক শো-এ হাজির হয়ে সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করেন হৃতিক। জানান, ডেবিউ ছবির পরপরই ভক্তদের উন্মাদনা তাকে প্রায় ঘিরে ফেলেছিল। বিশেষ করে তরুণী ভক্তদের অতিরিক্ত আগ্রহ তাকে অনেক সময় বিব্রতও করত। নায়ক বলেন, বাড়ির সামনে প্রতিদিন অগণিত ভক্ত জড়ো হতো, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন তরুণী ও তাঁদের অভিভাবকরা। তিনি বলেন, প্রথম সিনেমাটি হিট হতেই সামনে এমন ভিড় লাগত যে বাড়ি থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই সময় জানালার পর্দা খুললেই মূল গেটের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের দেখা যেত। প্রেমিকা সুজান খানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অনেক সময় তাকে বাড়ির পেছনের দরজা ব্যবহার করতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তার নাচ, ব্যক্তিত্ব আর পর্দায় উপস্থিতির জাদুতে হৃতিক তখনই জনপ্রিয়তা পান ‘গ্রিক গড’ হিসেবে। অথচ তুমুল খ্যাতির মাঝেই তিনি ধরে রেখেছিলেন ব্যক্তিগত জীবনের ভালোবাসা- বাল্যবন্ধু সুজান খানের সঙ্গে সম্পর্ক। সেই বছরের শেষ দিকেই সঞ্জয় খানের মেয়ে সুজানকে বিয়ে করেন হৃতিক। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিয়ে করলেও তাঁর জনপ্রিয়তায় কোনো প্রভাব পড়েনি; বরং ভক্তদের ভালোবাসা আরও বেড়েছিল। রাকেশ রোশনের পরিচালনায় ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ শুধু নতুন নায়ক হৃতিকের আগমনই ঘোষণা করেনি, বরং দর্শকদের তাকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছিল তুমুল উত্তেজনা ও আকর্ষণ। এদিকে ভক্তদের সেই উন্মাদনার মধ্যেই মুক্তির অপেক্ষায় আছে হৃতিকের নতুন ছবি ফাইটার। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। এতে তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনকে।